ওয়াই-ফাই কিউআর কোডে নেটওয়ার্কের নাম আর পাসওয়ার্ড থাকে, তাই অতিথি ক্যামেরা ধরলেই যুক্ত হয়ে যান, কাউকে পাসওয়ার্ড মুখে বলতে হয় না। শুরুতেই জেনে রাখা ভালো: পাসওয়ার্ডটি কোডের ভেতরে পড়ার মতো অবস্থায় থাকে, তাই এটি অতিথি নেটওয়ার্কের জিনিস, মূল নেটওয়ার্কের নয়।
কোডের ভেতরে থাকে ছোট একটি নির্দেশ — নেটওয়ার্কের নাম, পাসওয়ার্ড, নিরাপত্তার ধরন আর নেটওয়ার্কটি লুকানো কি না — যা ফোন বুঝতে পারে। এটি লিঙ্ক নয় এবং কোনও পাতা খোলে না: ফোন বিন্যাসটি চিনে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব দেয়।
পাসওয়ার্ডটি এনক্রিপ্ট করা নয় এবং লুকানোও নয়। কোডের একটি ছবি পেলেই যে কেউ সেটিকে লেখা হিসেবে পড়ে ফেলতে পারে। এটি এই যন্ত্রের ত্রুটি নয়, এটিই বিন্যাসটির স্বভাব: পাসওয়ার্ড বিলি করার সহজ উপায়, পাসওয়ার্ড আড়াল করার উপায় কখনওই নয়।
এ কারণেই সৎ পরামর্শ হলো কোডটি আলাদা পাসওয়ার্ডসহ অতিথি নেটওয়ার্কে বসানো। তখন কাউন্টারের কার্ডটি ঠিক ততটুকুই বিলি করে যতটুকু আপনি চেয়েছিলেন, আর পরে পাসওয়ার্ড বদলাতে খরচ হয় একবার ছাপা, ঘরের সব যন্ত্র নতুন করে যোগ করা নয়।
টেবিলের কার্ডটি ওই পরিচিত কথোপকথনের জায়গা নেয়। অতিথি নেটওয়ার্কের জন্য ছাপুন, আর পাসওয়ার্ড বদলালে আবার ছাপুন — বেশির ভাগ জায়গা ঠিক ওই মুহূর্তেই টের পায় যে কোডটা এতদিন মূল নেটওয়ার্কেই লাগানো ছিল।
অতিথি পৌঁছান মাঝরাতে, ফোনের চার্জ শেষ আর ল্যামিনেট করা কার্ডে লেখা বিশ অক্ষরের পাসওয়ার্ড টাইপ করার ধৈর্য নেই। ওয়াই-ফাই কোডের দাম এখানেই সবচেয়ে বেশি।
অভ্যর্থনা কাউকে কিছু টাইপ না করিয়েই অতিথি নেটওয়ার্ক দিয়ে দেয়, আর পাসওয়ার্ড বদলের যে নিয়ম আগে থেকেই চলছে, কোড সেই তালেই আবার ছাপা হয়।
দুদিনের নেটওয়ার্কের জন্য এমন সাইনবোর্ড লাগে না যা চল্লিশবার পড়ে শোনাতে হয়। ব্যাজের গায়ে একটি কোডই যথেষ্ট।
নেটওয়ার্কের নাম: ৩২ অক্ষর। পাসওয়ার্ড: ৬৩। এগুলো ওয়াই-ফাই মানদণ্ডেরই সীমা, এই যন্ত্রের নয়, আর ফর্মটি তা মেনে চলে।
আর সীমা গোনা হয় বাইটে, অক্ষরে নয় — বাংলার জন্য এটিই আসল কথা। ইংরেজি অক্ষরে এক বাইট, কিন্তু বাংলা অক্ষরে তিন। ফলে ৩২ বাইট মানে বাংলায় বড়জোর দশ-এগারোটি অক্ষর, আর যুক্তাক্ষর ও কার মিলিয়ে জায়গা চোখে দেখার অনেক আগেই ফুরিয়ে যায়।
বিশেষ অক্ষর সামলানোর কাজটি হয়ে গেছে। \ ; , " আর : — এই অক্ষরগুলোর কোডের ভেতরে আলাদা মানে আছে, তাই নাম বা পাসওয়ার্ডে থাকলে চিহ্নিত করতে হয়। এই যন্ত্র পাঁচটিই সামলায়। হাতে বানানো কোড ঠিক সেই পাসওয়ার্ডেই ভাঙে যেগুলো শক্ত করে বাছা হয়েছিল, কারণটা এটাই।
WPA3-এর আলাদা ঘর নেই, আর সেটিই ঠিক। বিন্যাসটি নিরাপত্তার তিনটি মান জানে — ডব্লিউপিএ, WEP আর কিছু না। WPA3 নেটওয়ার্ক ডব্লিউপিএ হিসেবেই লেখা হয়, বাকিটা ফোন আর রাউটার নিজেরা মিটিয়ে নেয়।
এক কোড মানে এক নাম। আপনার ২.৪ গিগাহার্টজ আর ৫ গিগাহার্টজ ব্যান্ড আলাদা নামে সম্প্রচার করলে সেগুলো দুটি নেটওয়ার্ক আর দুটি কোড লাগবে। এক নাম হলে একটিতেই চলে।
৬৩ অক্ষরের সীমার কাছাকাছি পাসওয়ার্ড কোডকে চোখে পড়ার মতো ঘন করে — এখানে মাপা হয়েছে, এম স্তরে এক পাশে ৪৫ মডিউল, ছোট পাসওয়ার্ডে যেখানে ৩৩। ছাপার মাপ সেভাবেই ঠিক করুন।